Home / অন্যান্য / নূরজাহান নীরা

নূরজাহান নীরা

মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।যিনি আল মাহমুদ নামেই বেশি পরিচিত বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি হিসেবে।বাংলা সাহিত্যের এই বরপুত্র ১১ই জুলাই ১৯৩৬ সালে ব্রাহ্মনবাড়িয়ার মোড়াইল গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন।তিনি ছিলেন একাধারে কবি,ঔপন্যাসিক,প্রাবন্ধিক,ছোটগল্প লেখক,সাংবাদিক এবং একজন মুক্তিযোদ্ধা।১৯৫০ দশকে যে ক’জন লেখক বাংলা ভাষা আন্দোলন,জাতীয়তাবাদ,রাজনীতি,অর্থনৈতিক নিপীড়ন এবং পশ্চিম পাকিস্থানী সরকার বিরোধী আন্দোলন নিয়ে লিখেছিলেন তার মধ্যে আল মাহমুদ একজন।একুশে ফেব্রুয়ারী নিয়ে লিখেছেন-
ফেব্রুয়ারীর একুশ তারিখ
দুপুর বেলার অক্ত
বৃষ্টি নামে বৃষ্টি কোথায়?
বরকতেরই রক্ত।

হৃদয় জাগানো কথামালা।হৃদয় স্পর্শকারী কথায় সাজিয়েছেন প্রভাতফেরীর গল্প।
মাত্র আঠার বছর বয়স থেকে তার কবিতা প্রকাশ পেতে থাকে। ঢাকা থেকে প্রকাশিত সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত ‘সমকাল’ পত্রিকা এবং কলকাতার নতুন সাহিত্য,চতুষ্কোণ,ময়ূর ও কৃত্তিবাস, ও বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত ‘কবিতা’ পত্রিকায় লেখা প্রকাশ পেতে থাকে। তার পর থেকেই ঢাকা-কলকাতার পাঠকের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠে কবি আল মাহমুদের নাম।তিনি আধুনিক বাংলা কবিতার নগরকেন্দ্রিক প্রেক্ষাপটে ভাটি বাংলার জন জীবন,গ্রামীন আবহ,নদীনির্ভর জনপদ,চরাঞ্চলের জীবনপ্রবাহ,এবং নর নারীর চিরন্তন প্রেম-বিরহকে তার লেখায় ফুটিয়ে তুলেছেন নিখুঁত ভাবে।
ব্রাহ্মনবাড়িয়া গ্রামেই কাটে কবির ছেলেবেলা। লেখাপড়াও করেন গ্রামের স্কুলে।সংবাদ পত্রের লেখালেখির সুত্র ধরেই ১৯৫৪ সালে তিনি ঢাকায় আসেন।সমকালীন বাংলা পত্র/পত্রিকার মধ্যে কবি আব্দুর রশিদ ওয়াসেকপুরি সম্পাদিত ও নাজমুল হক প্রকাশিত ‘সাপ্তাহিক কাফেলা’পত্রিকায় লেখালেখি শুরু করেন। পাশাপাশি তিনি ‘দৈনিক মিল্লাত’পত্রিকার প্রুভ রিডার হিসেবে সাংবাদিকতা জগতে পদচারণা শুরু করেন।১৯৫৫ সালে কবি আব্দুর রশিদ ওয়াসেকপুরি কাফেলা পত্রিকা থেকে চাকরি ছেড়ে দিলে তিনি সেখানে সম্পাদক হিসেবে যোগদেন।১৯৭১ সালে তিনি ভারত গমন করেন এবং সক্রিয়ভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহন করেন।দৈনিক গণকন্ঠ নামক পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেন এ সময় সরকার বিরোধী লেখার কারণে এক বছর কারাভোগ করেন তিনি।১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর তিনি গল্প লেখার দিকে মনোযোগী হন ।১৯৭৫ সালে প্রথম ছোটগল্প ‘পানকৌড়ির রক্ত ’প্রকাশিত হয়।সে সময়ই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাকে শিল্পকলা একাডেমির গবেষণা ও প্রকাশনা বিভাগের সহ পরিচালক পদের দায়িত্ব দেন। দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের পর তিনি পরিচালক হন এবং সে দায়িত্ব থেকে ১৯৯৩ সালে অবসর গ্রহন করেন।

আধুনিক বাংলা ভাষার প্রচলিত কাঠামোর মধ্যে স্বাভাবিক স্বতঃস্ফুর্তায় আঞ্চলিক শব্দের প্রয়োগ তার অনন্য কীর্তি।লোক লোকান্তর(১৯৬৩) কালের কলস (১৯৬৬) সোনালী কাবিন(১৯৭৩),মায়াবী পর্দা দুলে উঠো(১৯৭৬), কাব্য গ্রন্থগুলো তাকে প্রথম সারির কবির মর্যদা এনে দেয়।১৯৯৩ সালে প্রকাশিত হয় কবির প্রথম উপন্যাস ‘কবি ও কোলাহল’। আধুনিক বাংলা কবিতাকে নতুন আঙ্গিকে ,চেতনায় ও বাক্ভঙ্গিতে বিশেষভাবে সমৃদ্ধ করেছেন তিনি।পেয়েছেন পাঠক ভক্তকুলের শ্রদ্ধা ভালোবাসা। ১৯৬৮ সালে ‘লোক লোকান্তর’ ও‘ কালের কলস’ নামে কাব্য গ্রন্থের জন্য পেয়েছেন বাংলা একাডেমি পুরষ্কার।পেয়েছেন জীবনানন্দ স্মৃতি পুরস্কার(১৯৭২),জয় বাংলা পুরস্কার(১৯৭২) এবং নাসির উদ্দিন স্বর্ণ পদক সহ অসংখ্যা পুরস্কার।
‘প্রিয় পঞ্চমী’ গল্পগ্রন্থের ছোটগল্প ‘জলবেশ্যা,অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে চলচিত্র ‘টান’। ছবিটি নির্মাণ করেন কলকাতার পরিচলক মুকুল রায় চৌধুরী।ব্যাক্তি জীবনে আল মাহমুদ ছিলেন, সহজ সরল ও সহযোগী পরায়ণ নিরহংকার মানুষ। তরুন লেখকদের সব সময় উৎসাহ ,অনুপ্রেরণা দিতেন তিনি।
১৫ই ফেব্রুয়ারী ২০১৯ সালে বাংলা সাহিত্যের সাড়া জাগানো এই কবি চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরলোক গমন করেন।কবির আত্মার মাগফেরাত কামনা করি সতত।

Check Also

~ছেঁড়া পৃষ্ঠা এবং আত্মগত হৃদয়~ কবি~বিদ্যুৎ ভৌমিক

যদিও নিশ্চল হ’ত মন ; তাহলে এই চোখে পাহাড় আঁকতাম কবে থেকে এই পৃষ্ঠায় ভালোমন্দের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Website Design, Developed & Hosted by