Home / অপরাধ-আদালত / বাস্থবক চেয়ারম্যানের বদলি বানিজ্য

বাস্থবক চেয়ারম্যানের বদলি বানিজ্য

ডেস্ক রিপোর্টঃ বেনাপোল স্থল বন্দরে নানাবিধ অনিয়ম দুর্নীতি স্বেচ্ছাচারিতা ইত্যকার অরাজকতার নেপথ্য হোতা বাংলাদেশ স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষ ( বাস্থবক) এর চেয়রম্যান তপন চক্রবর্তী। এই লোকটি দির্ঘ ৭ বছর যাবৎ একই চেয়ারে থেকে নির্মান কাজ, নিয়োগ, বদলী বানিজ্য, জমি অধিগ্রহন সহ নানাবিধ কাজে মোটা টাকার অর্থ হাতিয়ে চলেছেন। বিগত সরকারের আমলে একজন প্রভাবশালী মন্ত্রীর আনুকল্য প্রাপ্ত এই ব্যাক্তিটির বিরুদ্ধে অনিয়ম দুর্নিতীর অভিযোগ একাধিকবার উত্থাপিত হলেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে কোন রকম ব্যবস্থা গ্রহন করেনি। জানা গেছে এই ব্যাক্তি সহ আরো একাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শ্রমিকদেও ন্যায্য পারিশ্রমিক নিয়ে অনিয়ম করার অভিযোগে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে ( যার নং সপ্রিম কোর্ট ২৬৫১/২০১৭) মামলাও দায়ের হয়েছে। এমনকি এই চেয়ারম্যান ব্যাক্তিটির বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগও উঠেছে।দুর্নিতি দমন কমিশনের প্রধান কার্যালয়ের পরিচালক একে এম জাহিদ হোসেন খান স্বাক্ষরিত ( স্বারক নং- দুদুক/ অভিঃ যাচাই- বাছাই /২৪২ – ২১৭/১৯১১৮ তারিখঃ ১৮/০৬/২০১৭) পত্রে তার উল্লেখ রয়েছে। আর এই ব্যাক্তিটিকে তার অপকর্মে সার্বিক সহযোগিতা করে যাচ্ছেন বাস্থবক এর তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হাসান আলী। এদের সঙ্গে আরো রয়েছেন, বাস্থাবকের সদস্য আলাউদ্দিন ফকির, সদস্য সচিব হাবিবুর রহমান, উপ-পরিচালক মামুন কবির তরফদার, সহকারী পরিচালক পার্থ ঘোষ, প্রকৌশলী রেজাউল ইসলাম সহ আরো অনেক অসৎ কমৃকর্তা কর্মচারী।

বাস্থবকের চেয়ারম্যান এর হাতে যেহেতু এই প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ, বদলী, শাস্তি মুলক ব্যবস্থা গ্রহন নির্মান সরবরাহ ইত্যাদি কাজের কার্যাদেশ দেওয়া সহ সকল রকমের কর্মকন্ডের একক ক্ষমতা সীমাবদ্ধ রয়েছে সে কারনে এই লোকটির স্বেচ্ছাচারিতার মাত্রাও সীমাহীন হয়ে উঠেছে। এই প্রতিষ্ঠানটি ২০০২ সালে গঠন কালে সমস্থ ক্ষমতা চেয়ারম্যানের হাতেই নিয়ন্ত্রিত রাখার নিতীমালাটি সম্পুর্ন অবাস্তব। যার পরিবর্তন অত্যাবশ্যক। আর এই ভ্রান্ত নিতীমালার সুযোগ নিয়েই এই ব্যক্তিটিই তার অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।

বাস্থাবক চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ বদলী বানিজ্য। এই প্রতিষ্ঠানের অধিনে বেনাপোল সোনামসজিদ, বুড়িমারি, ভোমরা, তামাবিল, আখাউড়া, বাংলাবান্ধা, টেকনাফ, হিলী সহ মোট ২২টি স্থল বন্দর রয়েছে। এর মধ্যে যেসব বন্দরে নতুন করে অবকাঠামো নির্মিত হচ্ছে সে সব জায়গায় পোষ্টিং পাওয়ার বিষয়টি লোভনীয় ব্যাপার বটে। কারন এখানে কোটি কোটি টাকার কার্যক্রম চলছে। এরকম লোভনীয় বন্দরগুলোর মধ্যে রয়েছে ভোমরা, তামাবিল, বুড়িমারী, বাংলাবান্ধা, উল্লেখযোগ্য । যেমন এর আগে বেনাপোল, বুড়িমারী বন্দরে কর্মকালে একাধিক অভিযোগে অভিযুক্ত বাস্থবক কর্মচারী ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি কিবরিয়া জলিল তুহিনকে ভোমরায় পোষ্টিং দেওয়া হয়। বেনাপোলে কর্মরত সহকারী পরিচালক পার্থ ঘোষকে ভোমরার দায়িত্বে পাঠানো হয়। এরপর তাকে আবার আরো লোভনীয় জায়গা তামাবিলে পাঠানো হয়। এরকম ভাবে অতিতে বহু বদলী বানিজ্য হয়েছে। এখনও হচ্ছে। এইতো গত বুধবার ১৩ ফেব্রুয়ারী বেনাপোল বন্দর থেকে দুইজনকে পাঠানো হয়েছে ভোমরা বন্দরে একই কায়দায়। এইসব বদলী বানিজ্যে কয়েক হাত বদল হয়ে মোটা টাকার লেনদেন হয় বলে অভিযোগ ।

Check Also

বিচারপতির বাসায় গিয়ে ঘুষ দাবি, কারাগারে এএসআই

পাসপোর্ট ভেরিফিকেশনের জন্য বিচারপতির বাসায় গিয়ে ঘুষ দাবি করায় পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের এক এএসআইকে কারাদণ্ড …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Website Design, Developed & Hosted by