Home / সারাদেশ / স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তার নেই, চিকিৎসা দেন পিয়ন!

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তার নেই, চিকিৎসা দেন পিয়ন!

চিকিৎসক, জনবল ও প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাবসহ নানা সংকটের মধ্য দিয়ে চলছে জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবা। পৌনে তিন লক্ষাধিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে হাসপাতালটিতে চারজন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও আছেন মাত্র একজন। তাকে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার পাশাপাশি দেখতে হচ্ছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রশাসনিক কার্যক্রমও।

চিকিৎসকের এমন শূন্যতায় কখনো স্বাস্থ্য সহকারী আবার কখনো অফিস সহায়ক (পিয়ন) স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছেন। এভাবে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ায় উপজেলার মানুষ প্রাপ্য চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

সাতটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত মাদারগঞ্জ উপজেলা। উপজেলার প্রায় পৌনে তিন লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা দিতে উপজেলায় রয়েছে একটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং সাতটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র। এসব চিকিৎসা কেন্দ্রে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে ১১ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও আছেন ছয়জন। তাদের মধ্যে দুজন ডেপুটেশনে আছেন। বাকিদের মধ্যে দুজন অনুপস্থিত আছেন।

এই অবস্থায় তেঘরিয়ার উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসক আঞ্জুমানা আরা ও ডেন্টালের চিকিৎসক ড. আশিকুর রহমান চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

গত বৃহস্পতিবার মাদারগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়। সরেজমিনে দেখা যায়, তেঘরিয়ার উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসক আঞ্জুমানা আরা বহির্বিভাগে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন। জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দিচ্ছেন স্বাস্থ্য সহকারী জাহাঙ্গীর আলম। আর জরুরি বিভাগে আসা রোগীদের ইনজেকশন দেওয়ার পাশাপাশি সার্জিক্যাল সেবা দিচ্ছেন কমপ্লেক্সের অফিস সহায়ক (পিয়ন) আসাদ।

পিয়ন হয়ে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার বিষয়ে আসাদকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘হাসপাতালে লোকজন নাই, তাই রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিচ্ছি। আমি সব পারি।’

স্বাস্থ্য সহকারী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘চিকিৎসক কম, একা যতটুকু পারছি একজন স্বাস্থ্য সহকারী হিসেবে রোগী দেখে সেবা দিচ্ছি।’

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক সংকট ও অনুপস্থিতে বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে জাহাঙ্গীর বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে ১১ চিকিৎসকের মধ্যে রয়েছে ছয়জন। হাসপাতালের দুজন মেডিকেল অফিসারের মধ্যে ডা. রাবেয়া বশরী যোগদানের পরদিন ডেপুটেশনে ঢাকার মুগদা হাসপাতালে রয়েছেন। আর ডা. শাইখ মাহবুব সেতু ব্যক্তিগত ছুটিতে রয়েছেন।

জাহাঙ্গীর আরও বলেন, দুজন মেডিকেল অফিসারের মধ্যে একজন বহির্বিভাগ ও অন্যজনকে জরুরি বিভাগে দরকার হলেও একজনও নেই। এ ছাড়া সাতটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সাতজন চিকিৎসকের মধ্যে পাঁচজন দেওয়া হলেও তিনজন ডেপুটেশনে অন্যত্র কর্মরত আছেন। বাকি দুজন চিকিৎসকের মধ্যে একজন ব্যক্তিগত কারণে ছুটিতে আছেন। ডা. আঞ্জুমানা আরা বহির্বিভাগে আসা রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন। এ ছাড়া হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) পদটিও দীর্ঘদীন ধরে শূন্য রয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মাজহারুল আলম বলেন, ‘একজন চিকিৎসক দিয়ে রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া কঠিন। তারপরও চালিয়ে যেতে হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিতের পাশাপাশি ডেপুটেশনে থাকা চিকিৎসকরা নিজের কর্মস্থলে ফিরে এলে উপজেলা মানুষের স্বাস্থ্যসেবা অনেকটাই পূরণ করা যাবে।’

Check Also

গোপালগঞ্জে ট্রেনের ধাক্কায় মোটর সাইকেলের ৩ আরোহী নিহত

গোপালগঞ্জে ট্রেনের ধাক্কায় মোটর সাইকেলের তিন আরোহী মারা গেছেন। মঙ্গলবার রাতে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ভেন্নাবাড়ি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Website Design, Developed & Hosted by